সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও চাকরিতে যোগ দেননি ১ হাজার ৪৭১ জন প্রার্থী। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার কারণে এসব পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষকসংকট মোকাবিলা এবং শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১,৪৭১ জন শিক্ষক পদে যোগ দেননি
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে জেলা ভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অধিকাংশ প্রার্থী কাগজপত্র জমা দিলেও একটি বড় সংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি।
মোট ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে ৫৫২ জন কোনো কাগজপত্র জমা দেননি। এ ছাড়া একজন প্রার্থী মারা গেছেন। ফলে কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও অন্যান্য কারণে মোট ৫৫৩ জন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এগোতে পারেননি।
এর পাশাপাশি নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও ৯১৮ জন প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দেননি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৭১ জন সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেননি।
কেন চাকরিতে যোগ দেননি প্রার্থীরা?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, অনেক প্রার্থী কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় আগেই ধারণা করা হয়েছিল যে তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিতে আগ্রহী নন।
আবার কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র পাওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি। তাদের কেউ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়েছেন বা অন্য পেশাগত সুযোগ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর কিছু প্রার্থীর যোগ না দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে এর ফলে অনুমোদিত পদ শূন্য থেকে যাওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট তৈরি হতে পারে।
শিগগিরই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদ পূরণ এবং শিক্ষকসংকট কমাতে নতুন করে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুর রহিম জানিয়েছেন, বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু নিয়োগের পরও যদি পদ শূন্য থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ে।
এ কারণে শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নতুন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে আগ্রহীদের প্রস্তুতি
নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রস্তুতি শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, আবেদন পদ্ধতি, আবেদন ফি, জেলা ভিত্তিক পদসংখ্যা ও অন্যান্য শর্ত বিস্তারিতভাবে জানা যাবে।
তাই যারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করতে চান, তাদের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করার পাশাপাশি এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
এক নজরে
- চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত: ১৪,৩৮৪ জন
- কাগজপত্র জমা দিয়েছেন: ১৩,৮৩১ জন
- কাগজপত্র জমা দেননি/অন্যান্য কারণে: ৫৫৩ জন
- নিয়োগপত্র পেয়েও যোগ দেননি: ৯১৮ জন
- মোট চাকরিতে যোগ দেননি: ১,৪৭১ জন
- নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: শিগগির প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে
শেষ কথা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট কমাতে শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি। সর্বশেষ নিয়োগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় নতুন করে নিয়োগের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। ফলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২৬ নিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
Comments